আদিল হঠাৎ কেনো জঙ্গি হয়ে উঠলো, আদিলের মায়ের বক্তব্য কি?

“আমার ছেলে এই রকম ছিল না আগে । কোনওদিন জঙ্গি হবে ভাবিইনি আমি । ও জঙ্গি হওয়ার জন্য রাষ্ট্রই দায়ী।” – আদিলের মা

বৃহস্পতিবার বারবেলায় জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের উপর সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালায় জইশ-ই-মহম্মদ নামক জঙ্গি গোষ্ঠী । 350 কেজি বিস্ফোরক বোঝাই স্করপিও নিয়ে CRPF-এর ট্রাকে ধাক্কা মারে বছর কুড়ির ফিদায়েঁ জইশ জঙ্গি আদিল দার ওরফে ওয়াকাস। নিমেষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ৪০টি তাজা প্রাণ। গুরুতর ভাবে জখম হন আরও অনেকে। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই লোকমুখে ফিরছে আদিলের নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে আদিলের একটি ভিডিও। সেখানে আদিল বলেছিল, “কাশ্মীরে হামলার পর স্বর্গে যাবো।”


কিন্তু হঠাৎ কেন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিল আদিল?

ছেলের এই কীর্তিকলাপ নিয়ে এ বার মুখ খুললেন তার মা ফাহমিদা। জানালেন, কয়েকবছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরার পথে সেনাবাহিনীর হাতে বেধড়ক মার খায় আদিল। “জওয়ানদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগ তুলে আমার ছেলেকে নির্মম ভাবে মারধর করে ওরা। তারপর থেকেই ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ করে ছিলাম। কেমন যেন একটা একরোখা ভাব। তবে ও যে সত্যি সত্যিই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেবে এটা ভাবিনি কখনও ।” তবে ছেলেকে হারানোর জন্য রাষ্ট্র এবং রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন আদিলের মা ফাহমিদ। তাঁর কথায়, “রাজনীতিকরা মুখে কথা বলেই সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। তাহলে আমার ছেলেটাকে মরতে হতো না এভাবে ।”

এর আগে আদিলের বাবা জানিয়েছিলেন ধর্মীয় জীবন যাপনের প্রতিই টান ছিল ছেলে আদিলের। নিয়মিত কোরান পাঠ থেকে শুরু করে রুটিন মাফিক নামাজ পড়া, সবেতেই আদিল ছিল একদম নিখুঁত। কিন্তু কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল সেই উত্তরই এখন হাতড়ে বেরাচ্ছেন বৃদ্ধ চাষি গোলাম হাসান। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে জানিয়েছেন, “আমরা ভালো নেই। যেসব সেনা জওয়ানের বাবা-মা সন্তান হারিয়েছেন, তাঁদের থেকে আমাদের সন্তান হারানোর দুঃখ কোনও অংশে কম নয়।”

দ্বাদশ শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করে স্কুল ছাড়ে আদিল। রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করে। পাশাপাশি মসজিদে নিয়মিত নমাজ পড়ত আদিল । তবে স্থানীয়দের কথায়, জঙ্গি দলের প্রতি তার আকর্ষণ আগে থেকেই ছিল। আদিলের আগে তার পরিবারের আরও এক সদস্য নাম লিখিয়েছিল জঙ্গি দলে। ২০১৬ সালে লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় সদস্য হিসেবে যোগ দেয় আদিলের তুতো ভাই মনজুর রশিদ দার। তবে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার ১১ দিন পরেই সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় সে। ওই বছরই হরকত উল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির সেনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর গোটা উপত্যকা জুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়। তার রেশ ছড়ায় পুলওয়ামাতেও। সেই সময় বিক্ষোভে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল আদিলকে।


পুলওয়ামা হামলার তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, সেই সময় থেকেই সক্রিয় ভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল আদিল। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে আচমকাই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় আদিল। নাম লেখায় জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনে। শুরু হয় আদিলের প্রশিক্ষণ। দিন কয়েক পরে একে-৪৭ নিয়ে ওয়াকাস কমান্ডার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে। গোয়েন্দাদের কথায়, গত বছর জইশের ফিদায়েঁ জঙ্গি ফারদিন আহমেদ খান্ডের মৃত্যুর পর সেই জায়গা নেয় আদিল। জোরকদমে শুরু হয় তার প্রশিক্ষণ। বছর ঘুরতেই আদিল হয়ে ওঠে দক্ষ ফিদায়েঁ জঙ্গি। সেনা কনভয়ে ঢুকে কী ভাবে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল তিন মাস ধরে।

এই রকম আরও বিভিন্ন নিউজ সম্বন্ধে জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক করে রাখুন। Netdarpan এর ফেসবুক পেইজ লাইক করার সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইট কে Subscribe করে রাখুন সকল নিউজ তৎক্ষণাৎ আপনার কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য।। এতে পশ্চিমবঙ্গ , ভারতবর্ষ এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় ঘটে ধাকা বিভিন্ন রকমের খবর সম্বন্ধে আপনারা বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণভাবে আপডেটেড থাকতে পারবেন। ধন্যবাদ।।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.