WBCS পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে কিছু আবশ্যিক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা !!

আগামীকালই পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত হতে চলেছে WBPSC এর সব থেকে বড় কম্পিটিটিভ পরীক্ষা WBCS এবং তাই প্রতিবারের মতোই এবারও এই পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীর তথা সাধারণ মানুষের আবেগ একেবারে তুঙ্গে। আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় পরীক্ষা দিতে চলেছে প্রায় 2 লক্ষ পরীক্ষার্থীর । তবে এই সকল কথার সাথে সাথে এটাও একেবারেই ভোলা চলবে না যে PSC এর দ্বারা আয়োজিত বিগত দুটি পরীক্ষা ফায়ার ব্রিগেড ও ফুড সাব ইন্সপেক্টর এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার মতন যে সকল ঘটনা ঘটেছিল তার পর কিন্তু PSC এর ওপর সাধারণ মানুষ ও পরীক্ষার্থীদের ভরসা অনেকটাই কমেছে।সে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হোক কিংবা পরীক্ষা চলাকালীন বিভিন্ন ভাবে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবার মাধ্যমে পরীক্ষায় টুকলি করবার মতো প্রকৃত সত্য কে একেবারেই বানচাল করা যায় না। তবে এই সকল প্রকার পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই অত্যন্ত সজাগ ভাবে WBCS পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা অবশ্যই দেখে নেওয়া দরকার এবং সেগুলো হল :


১) নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবার 5 থেকে 10 মিনিট আগে পরীক্ষার ইনভিজিলেটর পরীক্ষা হলে সকল পরীক্ষার্থীর সামনে একটি এনভেলোপ এর সিল ফাটিয়ে তার ভেতর থেকে প্রশ্নপত্র কে বের করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবে।যদি আগের থেকেই এনভেলোপ এর সিল্ ফাটানো থাকে তাহলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন এবং দরকার পড়লে পরীক্ষার ইনভিজিলেটর কে সরাসরি প্রশ্ন করুন।গত PSC আয়োজিত ফুড সাব-ইন্সপেক্টর পরীক্ষায় কিন্তু বেশ কয়েকটি সেন্টারে প্রশ্নের এনভলভ সকল প্রকার পরীক্ষার্থীর সামনে না খুলে আগের থেকেই খুলে আনা হয়েছিল সুতরাং এই সম্বন্ধে অবশ্যই সতর্ক এবং সজাগ থাকুন।

২) নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিতি যাচাই করবার জন্য একটি কাগজের মধ্যে ইনভিজিলেটর প্রত্যেকের আঙ্গুলের ছাপ, সিগনেচার এবং পাসপোর্ট সাইজ ফটোগ্রাফ লাগিয়ে দেয় । তাই অবশ্যই আপনার আঙ্গুলের ছাপ স্বাক্ষর ও পাসপোর্ট সাইজ ফটোগ্রাফ টি কোনো কাগজের ওপর ইনভিজিলেটরের দ্বারা নেওয়া হয়েছে কিনা তা মনে রাখবেন এবং অবশ্যই সজাগ থাকবেন।

৩) বিভিন্ন নকল এবং অসৎ উপায় অবলম্বন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র পরীক্ষা হলে একেবারেই অনুমতি দেওয়া হয় না ।সুতরাং আপনাদের আশেপাশে কাউকে কোনো রকমের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে কিংবা সঙ্গে রাখতে দেখলে অবশ্যই পরীক্ষার ইনভিজিলেটর কে জানান।

৪) WBPSC এর দ্বারা আয়োজিত WBCS পরীক্ষাটি যেহেতু সম্পূর্ণরূপে অফলাইনে হচ্ছে তাই সেক্ষেত্রে OMR শিট কে জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই নজর রাখবেন আপনার আশেপাশের কোন পরীক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ফাঁকা OMR সিট জমা দিচ্ছে কিনা। কারণ বিগত বেশ কয়েকটি পরীক্ষাতে কিন্তু এভাবেই ফাঁকা OMR সিট জমা দিয়ে কিছু পরীক্ষার্থীর অসৎ উপায়ে সফলতাও পেয়েছে।

৫)OMR সিট ফিলাপ করার সময় অবশ্যই নিজের নাম , রোল নাম্বার এবং বাকি দরকারি তথ্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে লিখবেন এবং ব্ল্যাক বল পয়েন্ট পেন ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি সার্কেলকে OMR শিটে যত্ন সহকারে এবং মনোযোগ সহকারে ভর্তি করবেন। মনে রাখবেন একবার ভুল দাগালে পরবর্তীকালে কিন্তু ঠিক করার কোন রাস্তা থাকবে না।

অবশেষে সর্বোপরি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ , সবল এবং ঠান্ডা মস্তিস্কে গিয়ে বসে পরীক্ষা দেবেন ।আমরা নেটদর্পণ এর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের জন্য শুভ কামনা করছি এবং আশা করছি আপনারা সকলেরই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে সরকারি চাকরির সন্ধান খুঁজে পাবেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ কে উজ্জল করবেন।সর্বোপরি একটাই বার্তা অন্যায় যেমন করবেন না তেমনি অন্যায় সহ্য করবেন না। প্রতিবাদ করতে শিখুন এবং একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ হন।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.