WBCS – 2019 এর খুঁটিনাটি

১। West Bengal Civil Service ফর্ম সংক্রান্ত তথ্য আমরা কীভাবে পাব? কোন Website বা দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের www.pscwbonline.gov.in এই ওয়েবসাইট থেকে বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অফিস থেকে এই পরীক্ষার তথ্য জানা যাবে। এবারের ফরম ফিলাপ 6th নভেম্বর থেকে 26th নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

২। ফর্ম ফিল আপ এর ফী কত? এই ফী কি শিথিল করা হয়? কাদের ক্ষেত্রে করা হয়?
২০০ টাকা ফী ধার্য্য করা হয়। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ এর সময় নেট ব্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে বা অফলাইনে ব্যাঙ্কের কাউন্টারে গিয়ে তা জমা করা যায়। এস সি, এস টি ও ৪০% এর বেশি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে কোনো ফী প্রয়োজন হয় না।

৩। WBCS পরীক্ষায় আবেদন করার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? কোনো নির্দিষ্ট percentage এর প্রয়োজন হয়?
উত্তরঃ UGC স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কোনো কলেজ থেকে যে কোনো শাখায় স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই এই পরীক্ষায় বসা যায়। পাস নাম্বার থাকলেই চলবে, যেকোনো % পেয়ে পাস করলেই হবে।

৪। এই পরীক্ষার জন্য বয়স সীমা কত? আর SC,ST, OBC দের ক্ষেত্রে কী এই সীমার কোনো পরিবর্তন করা হয়ে থাকে?
উত্তরঃ এই পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন গ্রুপের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বিভিন্ন, A গ্রুপের জন্য ২১ বছর থেকে ৩৬ বছর , B গ্রুপের জন্য ২০ থেকে ৩৬ বছর, c গ্রুপের জন্য ২১-৩৬ বছর এবং D গ্রুপের জন্য ২১ থেকে ৩৯ বছর বয়সসীমা নির্ধারিত আছে। যে বছরের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে সেই বছরের ১লা জানুয়ারী অনুযায়ী বয়স হিসাব করা হয়। SC ও ST পরীক্ষার্থীরা ৫ বছরের এবং OBC রা ৩ বছরের ছাড় পাবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ৪৫ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

৫। WBCS পরীক্ষা কটি পর্যায়ে হয়?
উত্তরঃ WBCS পরীক্ষা তিনটি পর্যায়ে নেওয়া হয়, প্রিলিমিনারী পরীক্ষা, মেন পরীক্ষা ও পার্সোনালিটি টেস্ট।

৬। প্রথম পর্যায় কোন সময় হয়? মোট কত নাম্বারের হয়? এবং রেজাল্ট সাধারণত কত দিন পর বের হয়?
উত্তরঃ প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা সাধারণত জানুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এই বছর ২৮ শে জানুয়ারী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মোট ২০০ নাম্বারের হয়। রেজাল্ট সাধারণত মে-জুন এর দিকে প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে এই প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ৭৯২২ জনকে কোলালিফাই করানো হয়েছিল। এই ৭৯২২ জন মেন পরীক্ষায় বসতে পেরেছিলেন।

Earlier, the exam was scheduled to be conducted on January 20, 2019. Now it has been postponed and scheduled to be held on February 9, 2019, from 12 noon to 2.30 pm.

৭। প্রিলিমিনারী পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ কেমন হয়? কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ২০০ টি মাল্টিপল চয়েজ প্রশ্ন আসে প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১ নাম্বার করে। মোট ৮ টি বিষয় থেকে ২৫ টি করে প্রশ্ন আসে, বিষয়গুলি হলঃ-
১) ভারতের ইতিহাস, ২) ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ৩)ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল, ৪) সাধারণ বিজ্ঞান, ৫) ভারতের অর্থনীতি ও ভারতের সংবিধান (পলিটি), ৬)সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, ৭) মেন্টাল এবিলিটি ও ৮) ইংরাজি

৮। নেগেটিভ মার্কিং কি হয়?
উত্তরঃ প্রতি তিনটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নাম্বার করে কাটা যায় অর্থাৎ প্রতি তিনটি ভুলের জন্য একটি প্রশ্নের নাম্বার কাটা যায়।

৯। এই পরীক্ষার প্রিপারেশন আমরা কতদিন আগে থেকে নেওয়া শুরু করবো?
উত্তরঃ এই পরীক্ষার সাধারণ বিষয়গুলি মূলত মাধ্যমিক স্তরের, বেশিরভাগ বিষয়গুলি আমরা মাধ্যমিক স্তরে পড়েছি। গ্রাজুয়েশন স্তরেই যদি জেনারেল স্টাডিস এর বিষয়গুলি পড়তে শুরু করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়। তবে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সময় নষ্ট না করে প্রস্তুতি পুরো দমে শুরু করা উচিৎ।

১০। প্রিলিমিনারী এর রেজাল্ট বেরনোর কতদিন পর মেন হয়?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট বেরোনোর এক থেকে দেড়মাসের মধ্যেই মেন পরীক্ষা হয় তাই প্রিলিমিনারী পরীক্ষা দিয়েই পরদিন থেকেই মেন এর জন্য পড়া উচিৎ। প্রিলিমিনারী পাশ করলে তবে মেন এর জন্য পড়বো মনে করে বসে থাকলে মেন পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।

১১। কাট অফ সাধারণত কত থাকে? এবারের কাট অফ কত?
প্রিলিমিনারী পরীক্ষার কাট অফ সাধারণত জেনারেল পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১০-১২০ এর মধ্যে হয়। SC,ST এর ক্ষেত্রে আরও ১০ নাম্বারের মত কম হয়। পি এস সি সাধারণত কাট অফ ঘোষণা করে না তবে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা RTI এর মাধ্যমে কাট অফ জানতে চাইলে তা জানানো হয় কোন বছরের পরীক্ষা পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর।

১২। ২০১৯ এর মেন এর তারিখ?
উত্তরঃ প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই PSC মেন এর তারিখ জানিয়ে দেয় সাধারণত, এবছর প্রিলিমিনারীর রেজাল্ট প্রকাশিত হলে তা আমরা জানতে পারব।

১৩। প্রিলিমিনারীর এর পর মেন এর জন্য সময় তো খুব কম থাকে প্রস্তুতির জন্য, তাহলে কি আমরা প্রিলিমিনারী ও মেন এর প্রিপারেশন একসাথে নিতে পারি?
উত্তরঃ হ্যা একসাথেই এই দুটি ধাপের প্রিপারেশন নিতে হবে। আমরা যদি সিলেবাস দেখি তাহলে বুঝতে পারবো যে প্রিলি ও মেনস এ একই বিষয় আছে। মেনস এর ক্ষেত্রে একটু গভীরে ঢুকে বিষয়গুলি পড়তে হয় এটাই যা তফাৎ। পরীক্ষাটিকে আলাদা ধাপে না দেখে প্রিলি মেনস ও পার্সোনালিটি টেষ্ট এই তিনটিকেই হোলিষ্টিক ওয়েতে চিন্তা করলে ও সেই ভাবে পড়াশোনা করলে খুব ভাল হয়।

১৪। Main পরীক্ষায় কটি পেপার থাকে? মোট নাম্বার কত হয় প্রত্যেকটা পেপারের?
মেন পরীক্ষায় মোট ৬ টি কম্পালসারি পেপার হয়, প্রতিটি পেপার ২০০ নাম্বারের। এর মধ্যে পেপার -১ বাংলা/ হিন্দী/উর্দ্ধু/ নেপালী/ সাঁওতালী এর মধ্যে যেকোনো একটির উপর হয়, পেপার-২ ইংরাজি,
পেপার-৩ বা জেনারেল স্টাডিস-১ ভারতের ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল এর উপর হয়।
পেপার-৪ বা জেনারেল স্টাডিস-২ বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি, পরিবেশ, সাধারণ জ্ঞান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর উপর হয়।
পেপার-৫ ভারতের সংবিধান, ভারতের অর্থনীতি এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এর কার্যাবলী এর উপর হয়।
পেপার-৬ পাটীগণিত ও রিজনিং এর উপর হয়।
পেপার ১ ও পেপার ২ অর্থাৎ বাংলা ও ইংরাজি ডেস্ক্রিপাটিভ ধরণের হয়। বাকি পেপারগুলি MCQ, এই চারটি MCQ পেপারের ক্ষেত্রে negative মার্কিং আছে।
A ও B গ্রুপের জন্য এই ৬ টি কম্পালসারি পেপারের সাথে আরো দুটি পেপার পরীক্ষা দিতে হয়, সেই দুটি পেপার হয় একটি ঐচ্ছিক বিষয়ের উপরে। দুটি পেপারে মোট ৪০০ নাম্বার থাকে।
শুধুমাত্র C ও D গ্রুপের জন্য পরীক্ষা দিলে অপশনাল বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

১৫। প্রশ্ন ডেসক্রিপটিভ না অবজেক্টিভ?
উত্তরঃ বাংলা ও ইংরাজি ডেসক্রিপটিভ, বাকি চারটি অবজেক্টিভ।

১৬। Objective পেপারের জন্য short question পড়বো না topic অনুযায়ী পড়বো? কোনটা বেশি সুবিধাজনক হবে?
উত্তরঃ Objective পেপারের জন্য কেবল মাত্র শর্ট কোশ্চেন পড়লে কিন্তু কনসেপশন ক্লিয়ার হবেনা। তাই টপিক অনুযায়ী পড়তে হবে। আর একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন প্রিলিমিনারীর প্রশ্নে ইংরাজির পাশাপাশি বাংলা তর্জমা দেওয়া থাকে কিন্তু মেন এর প্রশ্ন কেবলমাত্র ইংরাজিতেই হয় তাই মেন এর জন্য ইংরাজি ভাষায় লেখা বই পড়লে প্রশ্ন বুঝতে ও MCQ এর উত্তর করতে সুবিধা হয়। তবে পাঠ্য বই থেকে টপিক অনুযায়ী পড়ার পর ঐ চাপ্টারগুলির শেষে দেওয়া MCQ গুলি সলভ করতে হবে এবং ইংরাজি ভাষায় ওই বিষয়গুলির উপর MCQ প্র্যাকটিস করতে হবে।

১৭। ডেসক্রিপটিভ পেপারগুলির নাম্বার ভাগ কেমন? নেগেটিভ মার্কিং হয় কি? টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করবো?
উত্তরঃ ডেসক্রিপটিভ পেপারগুলি হল বাংলা, ইংরাজি এবং অপশনাল।
কম্পালসরি বাংলাতে পত্র লেখা ( ১৫০ শব্দে), প্রতিবেদন লেখা (২০০ শব্দে), সারংশ রচনা করা, কম্পোজিশন অর্থাৎ একটি অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়া থাকে সেখান থেকে উত্তর লিখতে হয় এবং একটি ইংরাজি অনুচ্ছেদের বঙ্গানুবাদ করতে হয়। প্রতিটিতে ৪০ নাম্বার করে মোট ২০০ নাম্বার থাকে।
কম্পালসারি ইংরাজিতে লেটার লেখা (১৫০ শব্দে), রিপোর্ট (২০০ শব্দে), সারংশ লেখা, একটি ডায়ালগ রচনা করা বা কম্পোজিশন অর্থাৎ প্যাসেজ থেকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং বাংলা থেকে ইংরাজিতে অনুবাদ করা।
প্রতিটি ক্ষেত্রে ৪০ নাম্বার করে মোট ২০০। সময় থাকে প্রতিটি পেপারে ৩ ঘণ্টা করে। যেহেতু শব্দসীমা বেঁধে দেওয়া আছে তাই খুব একটা সময়ের ক্রাইসিস হয়না। প্রেসি লেখার জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশন আলাদা করে ঘরকাটা শীট সরবরাহ করে থাকে সেই শীটেই প্রেসি লিখতে হয়।
ডেসক্রিপটিভ পেপার বাংলা ও ইংরাজির ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও লেটার লেখার সময় কাল্পনিক নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করতে হয় কারণ এক্ষেত্রে আইডেন্টিটি ডিসক্লোজ করলে ১০% নাম্বার কাটা যাবে। অর্থাৎ নেগেটিভ মার্কিং এক্ষেত্রেও আছে।
টাইম ম্যানেজমেন্ট খুব বেশি মাত্রায় কাজে লাগে অপশনাল সাবজেক্ট গুলির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঐচ্ছিক বিষয়ের প্রশ্ন সবই ডেসক্রিপটিভ হয়। শব্দসীমাও কিছু বলে দেওয়া থাকে না। তবে লেখার সময় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য কত সময় তুমি ব্যয় করতে পারবে তার একটা হিসাব মনে মনে করে নিতে হবে। বাংলা, ইংরাজি ও অপশনাল এই সব বিষয়গুলির ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে পুরানো প্রশ্নপত্র থেকে ঘড়ি ধরে উত্তর লেখার অভ্যাস করা দরকার।

১৮। অপশনাল বিষয় তো অনেকগুলি থাকে কোন বিষয়ে বেশি নাম্বার ওঠে?
অপশনাল পেপার ৩৭ টি আছে এর মধ্যে Anthropology, Sociology, History, Psychology, Pali, Geography, Bengali এগুলি জনপ্রিয়। নাম্বার কেমন উঠবে সেটা পরীক্ষার্থীর উপর নির্ভর করে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে RTI করে পরীক্ষার্থীরা মাঝেমাঝে জানতে চায় কোন সাবজেক্টে কত নাম্বার সবচেয়ে বেশি উঠেছে? ২০১৩ সালের এরকম একটি প্রশ্নের উত্তরের কপি সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের নজরে এসেছিল সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে

মূলত স্কোরিং বিষয় গুলি হল Anthropology, Veterinary Science, Psychology, Pali, Geography, Zoology, Economics, Urdu, Agriculture ইত্যাদি। তবে নিজের স্নাতক স্তরের বিষয়ে ভাল দখল থাকলে সেই বিষয় অবশ্যই নেওয়া উচিৎ।

১৯। অপশনাল পেপার ফর্ম ফিল আপ করার সময় সিলেক্ট করতে হয়, মেন এর আগে তা বদলাতে পারবো? প্রসেস কি?
উত্তরঃ ফর্ম ফিল-আপ এর সময় অপশনাল পেপার সিলেক্ট করতে হয় তা আর মেন এর আগে বদলানো যায়না। সেই কারণে ফর্ম ফিল-আপ এর আগে অপশনাল পেপার টি ঠিক করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সিলেবাস দেখে ও বিগত বছরের প্রশ্ন দেখে অপশনাল পেপার নির্বাচন করতে হয়। নতুন সাবজেক্ট অপশনাল হিসাবে নেওয়ার আগে সেই সাবজেক্টের প্রাথমিক জ্ঞানের কিছু বই সংগ্রহ করে দেখে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবে বিষয়টিতে ইন্টারেস্ট না পেলে সেই বিষয়টি অপশনাল হিসাবে নিলে তুমি ভাল নাম্বার কখনোই পাবে না।

২০। মেন এর ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা পেপারে কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার না টোটালের উপর কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার?
উত্তরঃ মেন এর ক্ষেত্রে প্রতি পেপারে কোয়ালিফাইং মার্কস দরকার হয়না। মোটের উপর কাট অফ মার্কস অনুযায়ী পার্সোনালিটি টেষ্টে ডাকা হয়।

২১। WBCS এর বেশিরভাগ বই বাংলাতে, ইংরাজিতে বই কম, সেক্ষেত্রে ইংরাজিতে যারা পরীক্ষাদেবে তাদের বই ছাড়া আর কি অপশন আছে?
উত্তরঃ ২০১৪ সালের আগে WBCS এর সিলেবাস সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, পরীক্ষা পদ্ধতিও অন্য রকম ছিল। তখন বাংলাতে বই পড়েও WBCS পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে যেহেতু মেন পরীক্ষায় কেবল মাত্র ইংরাজি ভাষাতেই MCQ এর প্রশ্ন হচ্ছে তাই ইংরাজি মাধ্যমের বই পড়লেই বেশি সুবিধা হবে। সিভিল সার্ভিসের জন্য ইংরাজি মাধ্যমের বিষয়ভিত্তিক যে বই গুলি পাওয়া যায় সেই বইগুলিই সবাই এখন WBCS এর জন্য পড়ে থাকে। পাশাপাশি NCERT এর ক্লাস সিক্স থেকে টেন এর বই সায়েন্স সাবজেক্ট এর ক্ষেত্রে আর ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, পলিটির ক্ষেত্রে ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলভ এর পাঠ্যপুস্তক থেকে রিলেভেন্ট টপিক খুব ভাল কাজ দেবে WBCS পরীক্ষায়। বাংলা মাধ্যমের পুরানো সিলেবাসের মাধ্যমিকের পাঠ্য বই সংগ্রহে থাকলে সেগুলিও পড়া যেতে পারে। বই ছাড়াও অনলাইনে প্রচুর স্টাডি মেটেরিয়াল, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর সাইট, ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও আছে। সেগুলিও প্রস্তুতিতে সাহায্য করে।

২২। নাম্বারের ভিত্তিতে যে বিভিন্ন গ্রুপে নিযুক্ত করা হয় সেই গ্রুপ গুলি কিকি?
উত্তরঃ A, B, C ও D

২৩। এই গ্রুপ বিভাজন প্রিলির পর হয় না মেন এর পর?
উত্তরঃ মেন এর পরেই মেন পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বারের উপর ভিত্তি করে ও পরীক্ষার্থীদের পার্সোনালিটি টেষ্ট এর জন্য ডাকা হয়। সেখানে তাদের একটি চয়েজ শীট ফিল আপ করতে হয়। সেই শীটের প্রেফারেন্স অনুযায়ী ও মেন ও পার্সোনালিটি টেষ্ট এর প্রাপ্ত নাম্বার অনুযায়ী গ্রুপ ও সার্ভিস নির্ধারিত হয়।

২৪। গ্রুপ গুলির নির্ধারিত পদ গুলি কিকি?
উত্তরঃ WBCS A গ্রুপে আছে ৯ টি পোষ্ট, এর প্রথমেই আছে WBCS(Exe) মূলত এটিই এই পরীক্ষার সেরা চাকরিগুলির মধ্য অন্যতম। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিয়োগ হয় এই চাকরিতে এবং ২ বছরের প্রশিক্ষণ শেষে বিডিও হিসাবে কাজ করতে হয় একদম গ্রামে গিয়ে। এই চাকরী থেকে প্রোমোশন পেয়ে এসডিও, এডিএম, যুগ্ম সচিব ইত্যাদি হওয়া যায় পরবর্তীতে।
WBCS(Exe) ছাড়াও আরো আটটি সার্ভিসে নিয়োগ হয় এই গ্রুপে সেগুলি হল, কমার্শিয়াল ট্যাক্স সার্ভিস (CTO), স্টাম্প রেভিনিউ সার্ভিস (ADSR), এগ্রিকালচারাল ইনকাম ট্যাক্স সার্ভিস ( AITO), এক্সাইজ সার্ভিস এই চারটি সার্ভিসকে সম্প্রতি একত্রিত করে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেভিনিউ সার্ভিস (WBRS) গঠিত হয়েছে, পরবর্তীতে PSC এর বিজ্ঞাপনে হয়ত WBRS এই নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ফুড সাপ্লায় সার্ভিস (DCFS/SCFS), লেবার সার্ভিস (ALC), কো-ওপারেটিভ সার্ভিস (ARSC/DRCS), এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস (Employment Exchange officer) এই ৯ টি সার্ভিসে নিয়োগ করা হয়।
B গ্রুপে আছে পুলিশ সার্ভিস, ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডন্ট পদে নিয়োগ এর মাধ্যমে চাকরী জীবন শুরু হয়। প্রমোশনের স্কোপ খুব ভাল। ১৩-১৪ বছরের মধ্যেই IPS এ পদোন্নতি হয়।
C গ্রুপে ৭ ধরণের পোষ্ট আছে, জেলর (Chief Controller of correctional services) , জয়েন্ট বিডিও, ল্যান্ড রেভিনিউ অফিসার (SLRS- Gr1), ACTO, CDPO, ACRO, Dy. Ast. Director, Consumer affairs। এই গ্রুপের বেতনক্রম ও পদমর্যাদা A ও B গ্রুপের থেকে অনেকটাই কম। এই গ্রুপে চাকরী পেয়ে চাকরী জীবন শুরু করলে A গ্রুপে প্রোমোশন পেতে ৮-১৬ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। C গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন জেলরের। ACRO বাদে বাকি পোষ্ট গুলির বেতন সমান।
WBCS ডি গ্রুপ নন গেজেটেড, বেতন ও পদমর্যাদা অনেকটাই কম। নন গেজেটেড হওয়ার জন্য এই গ্রুপের জন্য ২১-৩৯ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় বসা যায়। সমবায় পরিদর্শক, পঞ্চায়েত ডেভলপমেন্ট অফিসার, রিহ্যাবিলিটেশন অফিসার পদে নিয়োগ হয় এই গ্রুপের মাধ্যমে। বেতন ক্রম C গ্রুপের থেকেও কম।

২৫। B গ্রুপের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হয় কি?
উত্তরঃ এই ক্ষেত্রে পুরুষের ক্ষেত্রে ১.৬৫ মিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১.৫০ মিটার উচ্চতা থাকা বাঞ্ছনীয়। গোর্খা, গাড়োয়ালি, আসামী ও অন্য উপজাতিদের জন্য উচ্চতার ছাড় আছে। আবেদন করার সময় ফর্মে উচ্চতা লিখতে হয়।

২৬। পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করতে করতে বা চাকরী করতে কি আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি?
উত্তরঃ হ্যা অবশ্যই নেওয়া সম্ভব। এখন অনেকেই গ্রাজুয়েশন করতে করতেও পড়া শুরু করে। পোষ্ট গ্রাজুয়েশন করার সময় যদি সময় পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই WBCS এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিৎ। চাকরী করতে করতে অনেকেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসে, দেখা গেছে প্রতি বছর যত জন সফল হন তার একটা বড় অংশ চাকরীরত পরীক্ষার্থী থাকে।

২৭। যারা WBCS দেয় তাদের মধ্যে অনেকেই UPSC পরীক্ষাও দিতে চান, এক্ষেত্রে দুটো পরীক্ষার মধ্যে কিছু মিল আছে?
ইউনিয়ন সিভিল সার্ভিসের (UPSC/IAS)ফর্ম ফিলাপ 6 March তারিখে সমাপন হয়েছে । প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে 3 June। তারপর মেন 1 October। আসুন তার আগে জেনে নিই এই পরীক্ষা নিয়ে।
সিভিল সার্ভিস বা ইন্ডিয়ান এডমেনিস্ট্র্যাটিভ সার্ভিস পরীক্ষা ভারত সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের পরীক্ষা ।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাটি নেয় ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)। ইন্ডিয়ান এডমেনিস্ট্র্যাটিভ সার্ভিস (IAS), ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS), ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) সহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষাটি নেওয়া হয়।
পরীক্ষাটি হয় তিনটি ধাপে-প্রিলিমিনারি ,মেন ও পার্সোনালিটি টেস্ট । প্রিলিমিনারি হয় ৪০০ নম্বরের ।
মেন হয় ১৭৫০ নম্বরের এবং পার্সোনালিটি টেস্ট হয় ২৭৫ নম্বরের ।
এই পরীক্ষার জন্য নোটিফিকেশন বের হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ । অনলাইন ফর্মফিলাপ হয়।
ফর্ম ফিলাপের সময় স্ক্যানকরা ছবি ও সইয়ের প্রয়োজন হয়। জেনারেল ও ওবিসি পুরুষ ক্যান্ডিডেটদের ১০০টাকা ফি লাগে । মহিলা আর এসসি (SCs), এসটিদের (STs) জন্য কোনরকম ফি লাগেনা।
এই পরীক্ষায় বসার শিক্ষাগত যোগ্যতা যে কোন বিষয়ে স্নাতক হলেই চলবে । বয়স ২১ বছর থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত (General Candidates)।
এই পরীক্ষার জন্য বসতে গেলে জেনারেল ক্যাটাগরির পরীক্ষার্থিরা সর্বাধিক ৬ বার সুযোগ পায় । আর ওবিসিরা সর্বাধিক ৯ বার ।
এসসি, এসটিরা তাদের নির্দিস্ট করা বয়সের ভিতর যতবার খুশি এই পরীক্ষা দিতে পারে।
প্রিলিমিনারি (Preliminary):
প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি হয় মে-আগস্ট মাসে। রেজাল্ট বের হয় পরের মাসেই মানে সেপ্টেম্বরে । প্রিলিমিনারি ৪০০ নম্বরের(২০০+২০০) পরীক্ষা। দুটি পেপার থাকে ।
General Studies Paper I
General Studies Paper II (Civil Services Aptitude Test -CSAT) ।
দুটি পেপারই অবজেক্টিভ টাইপের ও মাল্টিপল চয়েস টাইপের প্রশ্ন হয় । নেগেটিভ মারকিং থাকে (১/৩)।
দ্বিতীয় পেপারটি কোয়ালিফাইং পেপার । এটির নম্বর মেরিট লিস্টে যুক্ত হয় না। এটিতে কেবল পাশ করতে হয়। ৩৩% নম্বর পেলে তবেই পাশ ধরে নেওয়া হয় আর তারপরেই প্রথম পেপারের নম্বর দেখে মেন পরীক্ষায় বসার জন্য ডাকা হয়।
দুটি পেপারেরই পরীক্ষার সময় ২ ঘন্টা করে মোট ৪ ঘন্টা।
প্রথম পেপারে থাকে ১০০টি প্রশ্ন (২০০ নম্বর ) আর দ্বিতীয় পেপারটিতে থাকে ৮০টি প্রশ্ন (২০০ নম্বর )।
দুটি পেপারের প্রশ্ন ইংরেজি ও হিন্দিতে হয়।
General Studies Paper-I, সিলেবাস:-
Current events of national and international importance, History of India and Indian national movement
Indian and World Geography- Physical, Social, Economic Geography of India and the world
Indian Polity and Governance – Constitution, Political system, Panchayati Raj, Public Policy, Rights issues etc.
Economic and Social development – sustainable development, poverty, inclusion, demographics, social sector initiatives etc.
General issues on Environmental ecology, Bio-diversity and Climate change-that do not require subject specialization
General science
General Studies Paper-II
সিলেবাস:-
Comprehension
Interpersonal skills including communication skills
Logical reasoning and analytical ability
Decision making and problem-solving
General mental ability
Basic numeracy (numbers and their relations, orders of magnitude etc.) (Class X level), Data Interpretation (charts, graphs, tables, data sufficiency etc. – Class X level)
English Language Comprehension skills (Class X level)Questions relating to English Language Comprehension skills of Class X level. (will be tested through passages from English language only without providing Hindi translation)
সিভিল সার্ভিস্ মেন এক্সামঃ-
প্রিলিমিনারিতে পাশ করলেই মেন পরীক্ষায় বসার অনুমতি মেলে । তখন আলাদা করে প্রিলিমিনারি পাশ করা ক্যান্ডিডেটদের মেনের জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে হয়। ২০০টাকা জেনারেল ও ওবিসি পুরুষ দের তখন দিতে হয় । মেন পরীক্ষা পুরোটাই লিখিত হয় । ডিসেম্বর মাসে মেন পরীক্ষা হয়ে থাকে ।
মেন পরীক্ষা ৯টি পেপারের উপর হয় । মেন পরীক্ষা পুরোটাই লিখিত হয় আর নিজ মাতৃভাষায় দেওয়া যায় । কেউ চাইলে বাংলা ভাষায় পুরো মেন পরীক্ষা দিতে পারে।মেন পরীক্ষায় একটি অপসনাল পেপার নিতে হয়।
মেন পরীক্ষার সিলেবাসঃ-
মেন পরীক্ষা হয় মোট ১৭৫০ নম্বরের ।
Paper-A (Compulsory Indian Language, নিজের নিজের পছন্দের ভাষা) – ৩০০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।
Paper-B (English)- ৩০০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।
পেপার A এবং পেপার B কোয়ালিফাইং পেপার । এতে পাশ করতে হয়। মেরিট লিস্টে এই নম্বর যুক্ত হয় না। পেপার ৩ থেকে ৯ এর নম্বর দেখে পার্সোনালিটি টেস্টে ডাকা হয়। কিন্তু পেপার ১ ও ২ পাশ করার পরই।
Paper – I : Essay – ২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা ।Paper-II: GENERAL STUDIES I – ২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Indian Heritage and Culture, History and Geography of the World and Society.
Paper- III: GENERAL STUDIES II -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Governance, Constitution, Polity, Social Justice and International relations)
Paper IV: General Studies III -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Technology, Economic Development, Bio-diversity, Environment, Security and Disaster Management)
Paper V: General Studies IV -২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
(Ethics, Integrity and Aptitude)
Paper VI : Optional Subject Paper 1-২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।Paper VII : Optional Subject Paper 2-২৫০ নম্বর । সময় ৩ ঘন্টা।
পার্সোনালিটি টেস্টঃ
মেন পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয় জানুয়ারি ফ্রেবরুয়ারিতে। তার কিছুদিন পরেই শুরু হয়ে যায় পার্সোনালিটি টেস্ট। মেন পরীক্ষায় মেরিট লিস্ট দেখে ডাকা হয় পার্সোনালিটি টেস্টে। সেটি হয় ২৭৫ নম্বরের ।
আমরা যদি দেখি WBCS এবং UPSC Civil Service পরীক্ষার সিলেবাসে একই ধরণের বিষয়গুলি থাকছে, UPSC এর ক্ষেত্রে এথিক্স, আর্ট এন্ড কালচার এই বিষয়দুটি বেশি পড়তে হবে। আর WBCS মেন এ বাংলা ও ইংরাজি এবং অপশনাল বাদে বাকি পেপারগুলি MCQ কিন্তু UPSC তে মেন এর সব পেপারই ডেসক্রিপটিভ। তাই দুটি পরীক্ষার জন্য একই সাথে প্রিপারেশন নেওয়া সম্ভব।

২৮। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কোচিং রয়েছে সেখানে WBCS পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুকরা যেতে পারে, এই প্রতিষ্ঠান গুলি কতটা সাহায্য করতে পারে?
উত্তরঃ কোচিং প্রারম্ভিক পর্যায়ে সাহায্য করতে পারে। একজন পরীক্ষার্থী নিজে থেকে সিলেবাস, প্রশ্ন ইত্যাদি ঘেঁটে কি কি বইয়ের কি কি চ্যাপ্টার পড়তে হবে সেসব ঠিক করতে গেলে একটু সময় বেশি লেগে যায়। সেই সময় যদি WBCS পরীক্ষা দিয়ে সফলতা পেয়েছে এমন কেউ একটু সাহায্য করে সেটা প্রস্তুতি নিতে অনেকটা সাহায্য করে। তাছাড়া অপশনাল চয়েজ করার ক্ষেত্রেও অনেকটা দিশা পাওয়া যায়। যে সব কোচিং সেন্টার WBCS এর জন্য প্রশিক্ষণ দেয় সেখানে এই ধরণের সাহায্য পাওয়া যায়। তাছাড়া এখন প্রিলি ও মেন এর কম্পালসারির অনেকটাই MCQ তাই কোচিং সেন্টারে মক টেষ্ট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এখন অনেকেই কোচিং না নিয়েও সাফল্য পাচ্ছে। ঠিকঠাক ভাবে বাড়িতে বসে পড়লে এই পরীক্ষায় সাফল্য না পাওয়ার কিছু নেই। স্মার্ট স্টাডি সাথে হার্ড লেবার এই দুটোই এই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি। এখন যেহেতু প্রায় সবটাই MCQ তাই সাজেশন করে পড়লে চলবে না। কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতেই হবে। যেহেতু সাজেশন করে পড়ার জাইগাটা অনেকটা কমে এসেছে তাই আমি বলবো কোচিং এর গুরুত্ব তাই অনেক কমে এসেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শুরুতে একবছর পরিক্ষার্থীরা কোচিং এ গিয়ে কি কি পড়তে হবে বুঝে নেওয়ার পর বাড়িতে বসেই পড়ে। এই বুঝে নেওয়ার ব্যাপার টা কোনও তরুণ আধিকারিক বা সদ্য পরীক্ষায় WBCS পরীক্ষায় পাশ করেছে এমন কারো কাছ থেকেও সম্ভব। এখন ইউটিউবে ও অন্য সোস্যাল মিডিয়াতেও আধিকারিকেরা এই ধরণের প্রারম্ভিক জ্ঞান শেয়ার করে থাকেন। এগুলো থেকেও এই প্রাথমিক জ্ঞান পাওয়া যেতে পারে।

২৯। এই প্রতিষ্ঠান গুলি অনেকটা খরচ সাপেক্ষ, যারা অ্যাফোর্ড করতে পারবে না তারা কিভাবে এগোবে?
উত্তরঃ বিগত বছরের ফলাফল গুলি বিচার করে দেখা যাচ্ছে অনেক ছেলেমেয়েই এই কোচিং এর বাইরে থেকে চাকরী পাচ্ছে। তাগেই বলেছি এখন বিভিন্ন জেলায় কর্মরত তরুন আধিকারিকেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় সোস্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে চলেছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ফ্রি ওয়ার্কশপ আয়োজন করে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন জেলায় ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও এগরায়, বর্ধমান জেলার কালনা ও কাটোয়ায়, বীরভূমের সিউড়ি ও রামপুরহাটে (IDEA নামক প্রতিষ্ঠান) এই পরীক্ষার জন্য অবৈতনিক কোচিং চালু আছে। পুরুলিয়ার সিধু কানু বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় মাসিক ১০০ টাকার বিনিময়ে WBCS এর কোচিং চালু করতে চলেছে। তবে প্রথমেই বলেছি আবারও বলছি এখন MCQ ধরণের প্রশ্নে কোচিং সেন্টারের খুব বেশি ভূমিকা নেই। নিজেকে টপিক অনুযায়ী পড়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাড়িতে বসে পড়ে খুব সহজেই এই চাকরী পাওয়া সম্ভব। বাজারে এখন খুব ভাল ভাল বই পাওয়া যায় সিভিল সার্ভিসের জন্য তার সাথে NCERT এর বই ফলো করলে ব্যাপারটা আরও বেশি সহজ হবে।

৩০। মেন এর রেজাল্ট বেরনোর কতদিন পর পার্সোনালিটি টেষ্ট হয়?
উত্তরঃ মেন পরীক্ষায় যারা ভাল নাম্বার পায় তারা পার্সোনালিটি টেষ্ট এর জন্য ডাক পেয়ে থাকেন। প্রথমে A গ্রুপের পার্সোনালিটি টেষ্টের ডাকা হয়। রেজাল্ট বেরোনর ১৫-২০ দিন পর শুরু হয় পার্সোনালিটি টেষ্ট। এক দিনে ১৪-২০ জনকে ডাকা হয় তাই বেশ কিছুদিন ধরে এই টেষ্ট চলে। মোটামুটি ৩৫০-৪০০ জন ডাক পায় এই ক্ষেত্রে। এর মধ্যে থেকে A গ্রুপে সব মিলিয়ে ১২০-১৪০ জনের মত চাকরি পায়। এর পর B গ্রুপের জন্য আলাদা ইন্টারভিউ এর আয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে A গ্রুপের ইন্টারভিউ এর পরপরই B গ্রুপের ইন্টারভিউ হয়ে থাকে। C ও D গ্রুপের জন্য আলাদা ইন্টারভিউ এর আয়োজন করা হয়। তবে যারা A গ্রুপের জন্য ইন্টারভিউ দেওয়ার পর চাকরী পেলেন না তারা আর নতুন করে ইন্টারভিউ এর মুখোমুখি হবেন না। পুর্বের ইন্টারভিউ এ প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে C বা D গ্রুপে বিবেচিত হবেন। A ও B গ্রুপের জন্য পার্সোনালিটি টেষ্টের নাম্বার ২০০ করে, c গ্রুপের জন্য ১৫০ ও D গ্রুপের জন্য ১০০।

৩১। পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেব?
উত্তরঃ আগেই বলেছি পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য বেশ ভাল নাম্বার ধার্য্য আছে এই পরীক্ষায়। তাই এই পর্যায়টির জন্য প্রস্তুতি খুব ভাল ভাবে নেওয়া দরকার। A ও B গ্রুপের ক্ষেত্রে ৫ জন করে বোর্ড মেম্বার এর বোর্ড হয়। সাধারণত বাংলা ও ইংরাজি দুটি ভাষাতেই ইন্টারভিউ হয়। প্রশ্ন যদি ইংরাজিতে হয় তাহলে উত্তরও ইংরাজিতেই দেওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাতে হলে বাংলায়। তবে ভাষাগত খুব সমস্যা হলে অনুমতি নিয়ে বাংলায় উত্তর দেওয়া যেতে পারে। ইন্টারভিউ এর জন্য কিছু কমন টাইপের প্রশ্ন ধরা হয়ে থাকে, যেমন Introduce yourself, what is your hobby? কেন তুমি এই চাকরীতে আসতে চাইছ, কেন নিজের সাবজেক্ট অপশনাল হিসাবে নিচ্ছনা?, কেন ব্যবসা করনি? গ্রাজুয়েশনের পর এত দিন কি করছিলে? সিভিল সার্ভিসে কোন পদটি তোমার পছন্দ এবং কেন? বিডিও হলে কি কি করবে? আর কিছু হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন করা হয়, তুমি এই জাইগায় থাকলে কি করতে? রুরাল ডেভলপমেন্ট কি ঠিকঠাক হচ্ছে? যদি না হয় কেন হচ্ছে না? নিজের জেলার ও এলাকার ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর থেকে অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন, বর্তমানে সরকারের প্রকল্পগুলি, সংবিধান ও অর্থনীতির কিছু অতিপরিচিত সংজ্ঞা যেমন habeas corpus(বন্দীপ্রতক্ষীকরণ), ব্যাঙ্ক রেট ইত্যাদি, সংবিধানের প্রস্তাবনা ইত্যাদি ধরা হয়। অতিপরিচিত সংজ্ঞা গুলি ইংরাজিতে বলতে পারার মত করে বুঝে পড়ে নেওয়া দরকার। পার্সোনালিটি টেষ্টের জন্য একটা খাতা বানালে খুভ ভাল হয়। সেই খাতাতে নিজের মত করে ইংরাজি ও বাংলায় প্রশ্নের উত্তরগুলি লিখে লিখে তৈরি করলে খুব সুবিধা হয়। আর বন্ধুদের কাছে বা দাদা-দিদিদের কাছে মক পার্সোনালিটি টেষ্ট দিতে পারলে খুব ভালো হয়। কেউ না থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কনটেম্পোরারি ইস্যু নিয়ে বললেও ভয় কাটে। মনে রাখতে হবে পার্সোনালিটি কিন্তু খুব বেশি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তোমার মধ্যেই তোমার ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে। মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কাছে একবার জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি কিভাবে পাথর দিয়ে এত সুন্দর মূর্ত্তি বানান? উত্তরে তিনি বলেছিলেন এই মূর্ত্তি পাথরের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, তিনি কেবল কিছু বাড়তি অবাঞ্ছিত অংশ বাদ দিয়েছেন মাত্র। তোমার মধ্যেই তোমার ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে আছে সেটাকে খুঁজে বার করার দায়িত্ব তোমার। অনেক ছেলেমেয়েকে দেখেছি এই টেষ্ট-এ খুব কম নাম্বার পাওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষায় ভাল নাম্বার পেয়েও ভাল চাকরি পাচ্ছেনা আবার অনেকেই লিখিত পরীক্ষায় কম পেয়েও পার্সোনালিটি টেষ্টের জোরে ভাল চাকরী পেয়ে যাচ্ছে। মনে রাখবে এখানে তথ্য জানতে চাওয়া হয় না, কারণ তুমি কি জানো আর কি জানো না সেটা পরীক্ষাতেই জানা হয়ে গেছে। এখন তুমি পরিস্থিতি কেমন করে ট্যাকেল কর সেটা দেখার পরীক্ষা। এখানে কিছু অজানা থাকলে তুমি সেটা জানোনা সেটা স্বীকার করাই ভালো। ভুল উত্তর একদম দেওয়া উচিৎ নয়। সেক্ষেত্রে একটি ভুল উত্তর থেকে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে। একদম ঘাবড়ে যাওয়া চলবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে ২০-৩০ মিনিট ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে পারলেই জেনে রেখো দিনটা তোমার।

৩২। পার্সোনালিটি টেষ্ট-এ যদি কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারে তাকে কী পরের বছর পুনরায় প্রিলি ও মেন দিতে হবে?
উত্তরঃ হ্যা, অবশ্যই দিতে হবে। প্রতি বছর নতুন করে পরীক্ষা হয়। যে পরীক্ষা হয়ে গেল তার আর কোনো গুরুত্ব থাকছে না যদি না তুমি সেটাতে চূড়ান্ত সফল হও।

৩৩। মেন পরীক্ষায় অপশনালের উত্তর কি বাংলাতে লেখা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মেন পরীক্ষাতে অপশনালের উত্তর বাংলা বা ইংরাজি যেকোনো ভাষাতে লেখা যায়। তবে একই পেপারে একটি প্রশ্ন বাংলা ও অন্য প্রশ্ন ইংলিশে লেখা যায়না।

৩৪। পড়ার শিডিউল কেমন হবে?
উত্তরঃ পড়ার শিডিউল নিজেকেই তৈরি করতে হবে। মনে রাখবে অনেকগুলি বিষয় আছে এই পরীক্ষায়। অনেকেই এমন আছেন যারা নিজেদের ভাললাগার বিষয়গুলিতে বেশি সময় দিয়ে ফেলেন এবং নিজের ডিসকোমফোর্ট জোনে খুব কম স্টাডি করেন। এটা একদম ঠিক নয়। কোনো একটি সাবজেক্টে খুব বেশি নাম্বার দিয়ে অন্য একটি পেপারের কম নাম্বার মেকআপ করা খুব কঠিন। তাই প্রতি সপ্তাহে পড়ার একটা চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করে নেওয়া খুব দরকার। সাধারণত প্রতিটা সাবজেক্ট প্রত্যেক সপ্তাহে বা প্রত্যেক মাসে যেন সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়া হয়। কত ঘন্টা করে পড়বে এটা তোমার ক্যাপাসিটির উপর নির্ভর করছে। মোটামুটি প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা পড়া দরকার।

৩৫। কি কি বই পড়বো?

উত্তরঃ বাংলা ও ইংরাজি মিলিয়ে এই বই গুলোর নাম বলা হল – Click here

N.B: THE INFORMATION / JOB DETAILS WHICH IS DISCUSSED ABOVE REGARDING THE RECRUITMENT PROCESS IS THE COLLECTION OF DATA FROM DIFFERENT EMPLOYMENT NEWSPAPER OR GOVERNMENTAL WEBSITES .WE ARE NOT A RECRUITER AGENCY OR DO NOT HOLD ANY KIND OF RECRUITMENT PROCESS .SO JOB FINDERS ARE REQUESTED TO GO TO THE OFFICIAL WEBSITE OF THE GOVERNMENT ORGANISATION FOR MORE DETAILS. WE ARE NOT LIABLE FOR ANY KIND OF MISUNDERSTANDING OR FALSE INFORMATION GIVEN BY THE THIRD PARTY MEDIA AGENCY OR WEBSITE.

বি.দ্র: উপরে দেওয়া নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যগুলি বিভিন্ন সর্বভারতীয় চাকরির পত্রিকা বা সরকারী ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত আমরা কোন রকম এজেন্সির নয় বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নই সুতরাং চাকরিপ্রার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে বিশদ বিবরণের জন্য আপনারা সরকারি ওয়েবসাইটে দেখুন তৃতীয় ব্যক্তি বা ওয়েবসাইটে দেওয়া ভুল তথ্যের জন্য আমরা কোনভাবেই দায়ী নই।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.