কমিশনের ঘুম উড়িয়ে চাকরি প্রার্থীদের যুদ্ধ ঘোষণা !!

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ওয়েটিং প্রার্থীদের নিয়োগে উদাসীন কমিশন৷ এই অভিযোগ তুলে মাধ্যমিক পরীক্ষার শুরু দিনেই বড়সড় আন্দোলনের পথে নামছেন কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী৷ অবিলম্বে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ওয়েটিং প্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে চাকরি প্রার্থীরা মঙ্গলবার কমিশনের দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে৷


চাকরি-প্রার্থীদের অভিযোগ, এসএসসির মাধ্যমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর৷ প্যানেল প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় একবছর পর ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর৷ মোট ৫৭১১ শূন্যপদও প্রকাশ করা হয়৷ প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে শেষ হলেও অবশিষ্ট শূন্যপদে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং কমিশন এখনও শুরু করেনি৷ প্রথম দফার কাউন্সেলিং করে ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩৭৭০ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়৷ অবশিষ্ট শূন্যপদে দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৷ দ্বিতীয় দফায় মোট ১১০৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। দুই দফা মিলিয়ে মোট ৪৮৭৮ জনকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত ৮৩৩ জনের নিয়োগপত্র তো দূরের কথা, বাকি সিটের জন্য চাকরি প্রার্থীদের কাউন্সেলিং পর্যন্ত করেনি কমিশন৷ এছাড়াও কিছু নন জয়নিং সিট রয়েছে৷

চারকিপ্রার্থীদের ধারনা, সব মিলিয়ে হাজারেরও বেশি সংখ্যক চাকুরিপ্রার্থীর নিয়োগ এখনও বাকি রয়েছে৷ কমিশনের গ্যাজেটে আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগ ও ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অনুযায়ী নিয়োগের কথা বলা আছে৷ কমিশন এই দুটি নিয়ম মানছে না বলে চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ৷ এই প্রসঙ্গে এসএসসি ছাত্র যুব অধিকার মঞ্চের এক সদস্য তুহিন শুভ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বারবার কমিশনে গিয়েছি৷ কিন্তু, কমিশনের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি আজ পর্যন্ত ৷ এমত অবস্থায় আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ফের কমিশনে যাচ্ছি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ওয়েটিংদের দ্রুত নিয়োগ ও আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগের দাবিতে। এর পরেও যদি না আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় তাহলে আমরা চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হব৷’’ একদিকে স্কুলগুলিতে যখন শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে পঠন পাঠন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তখন নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের উদাসীনতা অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক।

শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘শিক্ষা দপ্তরের খামখেয়ালিপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ফল ভোগ করতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত বেকারদের, যারা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এম্পানেলড হয়ে আছে। বছরের পর বছর এই জিনিস একদমই চলতে পারে না। অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলনকে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি ও আমরা আন্তরিকভাবে তাদের পাশে রয়েছি৷’’

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না। এতদিন পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রত্যেকটি স্তরেই নানান অনিয়ম ও অভিযোগ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু গত বছরের জুলাই ও আগস্টে একাদশ-দ্বাদশ এর প্রথম ও দ্বিতীয় কাউন্সেলিং হলেও আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গেল থার্ড কাউন্সেলিং না হয়েই নবম দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ফলে চরম অসহায়তার মধ্যে পড়েছেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এম্প্যালেন্ড ও ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা। আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরেই STEA এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র এসএসসি দপ্তরে কথা বলেন৷ চেয়ারম্যান যথারীতি মৌখিক আশ্বাসই দিয়েছিলেন৷ তাই ১২ তারিখে চাকরিপ্রার্থীদের যে শান্তিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান-ডেপুটেশন হচ্ছে তাকে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি৷’’

এই রকম আরও বিভিন্ন নিউজ সম্বন্ধে জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক করে রাখুন। Netdarpan এর ফেসবুক পেইজ লাইক করার সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইট কে Subscribe করে রাখুন সকল নিউজ তৎক্ষণাৎ আপনার কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য।। এতে পশ্চিমবঙ্গ , ভারতবর্ষ এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় ঘটে ধাকা বিভিন্ন রকমের খবর সম্বন্ধে আপনারা বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণভাবে আপডেটেড থাকতে পারবেন। ধন্যবাদ।।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.