লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি পদক্ষেপ !!

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা এবারের লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ ভোটের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি পদক্ষেপের কথাই জানালেন। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৯০ কোটি। এর মধ্যে একেবারে নতুন ভোটারের সংখ্যা কমবেশি দেড় কোটি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের অধিকার প্রদান সুনিশ্চিত করতে ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট সংযুক্ত রাখতে হবে। ১০০ শতাংশ বুথেই এই ব্যবস্থা চায় নির্বাচন কমিশন।মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল অরোরা জানিয়েছেন, ‘দেশের ১০ লক্ষ ভোটবুথের ইভিএমে প্রার্থীদের নাম, ছবি, প্রতীক থাকবে। প্রতিটি ভোটযন্ত্রে থাকবে ভিভিপ্যাট। এর জন্য ১৭.৪ লক্ষ ইভিএম লাগবে। ভোটারদের ভিভিপ্যাটের ব্যবহার বোঝাতে হবে। এবারই প্রথম ভিভিপ্যাটে পছন্দের প্রার্থীর চিহ্ন দেখতে পাবেন ভোটদাতা। যে চিহ্নের পাশে বোতাম টিপবেন ভিভিপ্যাটে সাত সেকেন্ড সেই প্রার্থীর চিহ্ন দেখতে পাবেন ভোটদাতা। নিশ্চিত হতে পারবেন নিজের ভোট নিয়ে। ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। যে কোনও প্রয়োজনে কমিশনের টোল ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। টোল ফ্রি নম্বর – ১৯৫০।’ ইভিএম নিয়ে কোনওরকম কারচুপির চেষ্টা হলে, তা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ধরা পড়বে। তাতে নির্বাচনে অস্বচ্ছতা এড়ানো যাবে। কমিশনার আরও জানিয়েছেন, কোনওরকম নিয়ম ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন কমিশন জানিয়েছে, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া প্যান কার্ড, লাইসেন্স, আধার কার্ড পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য ব্যবস্থা থাকবে ভোটকেন্দ্রে। থাকবে হুইলচেয়ার এবং তাঁদের সাহায্যের জন্য কর্মীরা। ভোটপর্ব চলাকালীন বিভিন্ন স্তরে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা এবার পর্যাপ্ত রাখা হচ্ছে। ভোটের আগে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে চলবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, এরিয়া ডমিনেশন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়ে দেন, ভোট প্রচারের সময় প্রার্থীদের অন্তত তিনবার টিভি এবং সংবাদপত্রে নিজেদের ক্রিমিনাল রেকর্ড তুলে ধরতে হবে।প্রার্থীদের জন্য এই নির্দেশিকা গত বছর ১০ অক্টোবর জারি হলেও এই প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে তা চালু হতে চলেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধু ব্যক্তিগত স্তরেই নয়, প্রার্থীদের কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে সেসব সেই দলের তরফেও তুলে ধরতে হবে। অর্থাৎ ভোট প্রচারের ক্ষেত্রে শুধু নিজেদের জয়গান গাইলেই যে চলবে না, তা-ই স্পষ্ট করে দিল কমিশন। সাধারণ ভোটারদের সামনে অপরাধের তালিকাও তুলে ধরতে হবে। যে প্রার্থী বা দল নির্বাচনে লড়বে, তাদের তিনটি আলাদা-আলাদা দিনে জনপ্রিয় কোনও টিভি এবং সংবাদপত্রে ক্রিমিনাল রেকর্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। যদি কোনও প্রার্থীর এমন রেকর্ড না থাকে, সে তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। প্রার্থীকে একটি ফর্ম ভরতে হবে, যেখানে কীরকম অপরাধে অভিযুক্ত তিনি, কোনও মামলার রায় বেরিয়েছে কিনা, কোনও মামলা এখনও আদালতের বিচারাধীন কিনা, সবকিছু উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে নিজেদের ওয়েবসাইটেও এসব তথ্য তুলে ধরতে হবে। নিজেদের পকেট থেকে খরচ করেই নির্দেশিকা মানতে হবে প্রার্থীদের। যে বা যাঁরা এই নির্দেশিকা অমান্য করবেন তাঁদের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হবে। কিংবা সাসপেনশনের মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।

এই প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়েও বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। এবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে প্রার্থীদের। স্বচ্ছ ও সুস্থ ভোট প্রচার হচ্ছে কিনা, তার জন্য প্রত্যেক প্রার্থীর টুইটার, ফেসবুক এবং গুগল অ্যাকাউন্টের দিকে কড়া নজর থাকবে। এর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নেটদুনিয়ায় ভুয়ো খবর রুখতে বিশেষ আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভুয়ো খবর ছড়ালেই সেই ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়াও কোনও দল সোশ্যাল সাইটে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে তার সত্যতা প্রথমে খতিয়ে দেখা হবে। তারপরই তা প্রকাশ করা হবে। তবে এখনও কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে গিয়েছে। যেমন, হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে প্রচার ও ভুয়ো খবরের জন্য কী ব্যবস্থা, তা স্পষ্ট নয়। কীভাবে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে নজরে রাখা হবে এবং নিয়ম অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তাও বিস্তারিত জানায়নি কমিশন।

লাগু হয়ে গিয়েছে লোকসভা ভোটের আদর্শ আচরণবিধি। কোথাও যদি এই আচরণ বিধি লঙ্ঘন করা হয় তবে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে।এবার একটি অ্যাপ লঞ্চ হয়েছে। মোবাইলে প্লে স্টোর থেকে ‘cVIGIL’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন যে কেউ। ওই অ্যাপে ছবি তো বটেই দু’মিনিটের ভিডিও পাঠিয়ে দিতে পারেন। যদি কেউ ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ অমান্য করেন, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এছাড়াও কমিশনের ১৯৫০ হেল্প লাইন নম্বর রয়েছে। সেখানেও ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।

Join Our WhatsApp GroupWhatsApp-Logo Click here.png

এই রকম আরও বিভিন্ন নিউজ সম্বন্ধে জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক করে রাখুন। Netdarpan এর ফেসবুক পেইজ লাইক করার সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইট কে Subscribe করে রাখুন সকল নিউজ তৎক্ষণাৎ আপনার কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য।। এতে পশ্চিমবঙ্গ , ভারতবর্ষ এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় ঘটে ধাকা বিভিন্ন রকমের খবর সম্বন্ধে আপনারা বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণভাবে আপডেটেড থাকতে পারবেন। ধন্যবাদ।।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.