রাজ্যে সব সরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের পোশাকপিছু বরাদ্দ বাড়ল !! বিস্তারিত জানুন 👇

রাজ্যের সকল প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রীদের পোশাক কেনার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন দপ্তর। এবার থেকে শিক্ষার্থী মাথাপিছু ২০০টাকা করে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০০টাকা। এর ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। নির্দেশিকায় পরিস্কার করে বলা হয়েছে, স্কুলস্তরে স্বসহায়ক দলের কাছ থেকেই পোশাক কিনতে হবে। প্রাক প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এবারও নির্দেশিকায় কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে জেলার সমগ্র শিক্ষা মিশন দপ্তরের আধিকারিকদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তাদের জন্যও পোশাকের টাকা পাঠানো হবে।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, “প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পোশাক কেনার বিষয়ে আমরা চিঠি পেয়েছি। এবার প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য ২০০টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা জেলায় এলেই তা দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”

রাজ্য শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরই প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রীদের পোশাক কেনার জন্য টাকা পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। গত বছর দু’সেট পোশাক কেনার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল মাথাপিছু ৪০০ টাকা। এবছর তা ৬০০টাকা করা হয়েছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের গুণমান বাড়বে বলে অভিভাবকদের ধারণা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ বুধবার সমগ্র শিক্ষা মিশনের স্টেট প্রোজেক্ট ডিরেক্টর আর বিমলা রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও মিশনের প্রোজেক্ট অফিসারদের চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দু’সেট পোশাক দেওয়ার জন্য ৬০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পোশাক স্কুলস্তরে স্থানীয় স্বসহায়ক দলের কাছ থেকেই কেনা বাধ্যতামূলক। চিঠিতে পোশাকের গুণমান নিয়েও সতর্ক করে বলে দিয়েছে।

আধিকারিকদের দাবি, প্রত্যেক বছর বহু স্কুলে শিক্ষার্থীদের পোশাকের টাকা নিয়ে বহু ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বহু স্কুলে বরাদ্দকৃত টাকার থেকে অনেক কম টাকার পোশাক কিনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। এবার তাই শিক্ষার্থীরা যাতে ভালো মানের পোশাক পায় সেই দিকে নজর রেখে জেলায় জেলায় পাঠানো চিঠিতে পোশাকের গুণমান ঠিক রাখার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই প্রসঙ্গে সকলকে জানানো হচ্ছে, পোশাক কেনার সময় তার গুণমান যাতে ঠিক থাকে, তা সকলকে নিশ্চিত করতে হবে। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা সমস্ত স্কুলকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে হবে। সমস্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীকে সঠিক সময়ের মধ্যে পোশাক দেওয়ার জন্য জেলা থেকে সার্কেল স্তরে সঠিক পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মনিটরিং করতে হবে। রাজ্য শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েই এই চিঠি সবাইকে পাঠানো হয়েছে। তবে গতবারও পোশাক কেনার আগে আর্থিক বরাদ্দের চিঠিতে স্বসহায়ক দলের কাছ থেকে পোশাক কেনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু, তবু বহু জেলা স্বসহায়ক দলের পরিবর্তে স্বসহায়ক দলের উপরে থাকা মহাসংঘের কাছ থেকে পোশাক কেনার নির্দেশিকা জারি করে বলে অভিযোগ। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর পোশাক সরবরাহ করতে বহু সময় লাগে এবং শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু পোষাকের আর্থিক বরাদ্দ হওয়ার সাত থেকে আট মাস পর পোশাক পায় বহু স্কুলের ছাত্রছাত্রী। এই জন্যেই এবার আর্থিক বরাদ্দের চিঠিতে স্বসহায়ক দলের কাছ থেকে পোশাক কেনার স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে অনুমান আধিকারিকদের।

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রী অরূপকুমার ভৌমিক বলেন,”পোশাক কেনার জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ায় আমরা খুশি। কিন্তু, গতবারের মতো মহাসংঘকে পোশাক কেনার দায়িত্ব দেওয়া হলে ছাত্রছাত্রীরা বছরের শেষে পোশাক পাবে। তাই এবার জেলাশাসকের কাছে মহাসংঘের পরিবর্তে যেকোনও স্বসহায়ক দলকে পোশাক কেনার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”

Join Our WhatsApp GroupWhatsApp-Logo Click here.png

এই রকম আরও বিভিন্ন নিউজ সম্বন্ধে জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি লাইক করে রাখুন। Netdarpan এর ফেসবুক পেইজ লাইক করার সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইট কে Subscribe করে রাখুন সকল নিউজ তৎক্ষণাৎ আপনার কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য।। এতে পশ্চিমবঙ্গ , ভারতবর্ষ এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় ঘটে ধাকা বিভিন্ন রকমের খবর সম্বন্ধে আপনারা বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণভাবে আপডেটেড থাকতে পারবেন। ধন্যবাদ।।

0 Shares

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.